বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
গত ২৮ জানুয়ারি শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে অভিনয় শিল্পী সংঘের নির্বাচন। এতে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন আহসান হাবীব নাসিম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রওনক হাসান। বিজয়ী হওয়ার পর শিল্পীদের উন্নয়নে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালেন দুই শিল্পী।
অভিনয় শিল্পী সংঘের আগের দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আহসান হাবীব নাসিম। এবার তিনি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নাসিম বলেন, ‘আমি এবার আগের দুই মেয়াদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাই। যারা জয়ী হয়েছেন এবং যারা পরাজিত হয়েছেন সবাইকে নিয়েই কর্মপরিকল্পনা করব। এক্ষেত্রে সবার মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
সংগঠনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানালেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রওনক হাসান। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ওপর ভোটারদের প্রত্যাশা রয়েছে। আমি নিজেও ভোটার। আমি এভাবে ভাবি যে, আমি আমাদের জন্য কী করতে পারি। আমরা যখন ২০১৭ সালে নির্বাচিত হই তখন আমরা তালিকা নিয়ে বসি যে, অভিনয়শিল্পীদের জন্য কী কী করা যায়। তখন দেখলাম যে এর আগে অভিনয়শিল্পীদের জন্য কিছুই করা হয়নি। আমাদের অগ্রজরা তারা যে অভিনয়ের পথটা তৈরি করে দিয়েছেন সে জায়গা থেকে আমরা অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারছি। কিন্তু সামগ্রিকভাবে অভিনয়শিল্পীদের জন্য কিছুই করা হয়নি। আমরা শুরু করি একদম জিরো থেকে। সেখান থেকে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছি। যেকোনো বিপদে আমরা আর্টিস্টদের পাশে দাঁড়াতে পারছি সেটা অর্থনৈতিক হোক, চিকিৎসায় হোক, আইনি বা যেকোনো সমস্যায়।’
অভিনয়শিল্পীদের অবসর ভাতা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে রওনক বলেন, ‘আমরা যে কয়দিন কাজ করি সেই কয়দিনই টাকা আছে। কাজ নেই তো টাকা নেই। একটা সময় যখন অভিনয়শিল্পীরা আর অভিনয় করতে পারেন না সে সময়ের দুরবস্থার কথা তো আমরা সবাই জানি। সে জায়গা থেকে আমরা অবসর ভাতার প্রচলন করতে চাই। আর্টিস্টদের জন্য আমরা একটা ফান্ড তৈরি করতে চাই। যেকোনো দুর্ঘটনায় যেন আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সাপোর্ট দিতে পারি। হঠাৎ করে একটা বিপদ হলে আমরা অনেক সময় অর্থ খুঁজে পাই না। সেটা আমার হোক, যারই হোক বিপদে বড় অ্যামাউন্টের কোনো ফান্ড আমরা পাই না। সেই জায়গা থেকে একটা ফান্ড তৈরি করতে চাই যেটা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা করা যায়।’
অভিনয় শিল্পী সংঘে যেকোনো মাধ্যমের শিল্পী সদস্য হতে পারবেন জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের অভিনয়শিল্পী সংঘ এখন শুধু টিভি শিল্পীদের সংগঠন না। এটা এখন নাটক, ওয়েব, এমনকি চলচ্চিত্রের শিল্পীদের জন্যও উন্মুক্ত। যেকোনো অভিনয়শিল্পী আমাদের অভিনয় সংঘের সদস্য হতে পারেন।
চলচ্চিত্রের রিয়াজ-পূর্ণিমাসহ অনেকেই আমাদের অভিনয় সংঘের সদস্য। যেকোনো শিল্পী আমাদের অভিনয় সংঘের সদস্য হতে পারবেন।
ভজুয়াল মাধ্যমের প্রফেশনাল আর্টিস্টদের সংগঠন এটা। একেকটা মাধ্যম আসবে- একেকটা মাধ্যমের জন্য একেকটা সংগঠন থাকবে এটা আসলে কোনো কাজের বিষয় না।’
শিল্পীদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নেও কাজ করবে সংগঠনটি। রওনক বলেন, ‘যেহেতু নাটক সিনেমা এখন আর জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও চলে গেছে। ফলে অভিনয়শিল্পীরা যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেন সেজন্য প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্যও কাজ করব। ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা করব। নিয়মিত ওয়ার্কশপ, সেমিনার, বিদেশি প্রশিক্ষকদের সঙ্গেও সমন্বয় করে আমরা ওয়ার্কশপের আয়োজন করতে পারি। আর আমাদের ওয়েবসাইটটাও ডেভেলপ করব। এর বাইরে একটি অ্যাক্টিং স্কুল ও ডিজিটাল লাইব্রেরিসহ নানা কিছু করারও ইচ্ছে আছে।’
স্কুল, ওয়ার্কশপ, অনুদান বা ডিজিটাল লাইব্রেরি নির্মাণের অর্থ কোথা থেকে আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিজেদের উদ্যোগে একটা ফান্ড করব আমরা। বিভিন্ন ধরনের সিস্টার কনসার্ন তৈরি করার কথা ভাবছি। যেখান থেকে অর্থ আসবে বলে মনে করি। আমরা সম্মিলিতভাবেই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করব।’
তারকাদের নানা সমস্যায় পাশে থাকার কথাও জানালেন তিনি। বলেন, ‘আমরা অতীতেও নানা সময়ে শিল্পীদের নানা সংকটে ও সমস্যায় সহায়তা করে এসেছি। আমাদের আন্তঃসংগঠন একটা টিম আছে- যারা শিল্পীদের যেকোনো সমস্যা-অভিযোগে সমস্যা সমাধান করে। আমরা অন্তঃসাংগঠনিক সম্পর্ক আরও উন্নয়ন করতে চাই। শ্যুটিংয়ের শৃঙ্খলা ফেরাতেও কাজ করব আমরা।’